
নিজস্ব প্রতিবেদক:
শ্রমিকদের অধিকার, নিরাপত্তা ও ন্যায্য পাওনা আদায়ের লক্ষ্যে গঠিত ফেডারেশন ও শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের দলীয়করণের বাইরে এসে স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন গণমাধ্যম ও মানবাধিকার কর্মী মো: জাহিদ হাসান।
তিনি বলেন, শ্রমিক সংগঠনের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা করা। কোনো রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের আন্দোলন পরিচালিত হলে সংগঠনের প্রতি সাধারণ শ্রমিকদের আস্থা ও বিশ্বাস ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
মো: জাহিদ হাসান বলেন, “ফেডারেশনের নেতাদের দলীয়করণ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। শ্রমিক সংগঠন কোনো ব্যক্তি বা দলের স্বার্থে নয়—শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য। তাই মত ও পথের পার্থক্য থাকলেও শ্রমিকস্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে শ্রমিকদের বিভিন্ন সমস্যা—ন্যায্য মজুরি, চাকরির নিরাপত্তা, বেতন-বকেয়া, কর্মক্ষেত্রে নিরাপদ পরিবেশ, শ্রম আইন বাস্তবায়ন এবং চাকরি হারানোর পর আইনগত পাওনা আদায়—এসব বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখা জরুরি। এসব মৌলিক দাবি আদায়ের আন্দোলন যেন কোনো রাজনৈতিক বিভাজনের কারণে দুর্বল না হয়ে পড়ে, সেদিকে শ্রমিক নেতাদের সতর্ক থাকতে হবে।
তার মতে, একটি শক্তিশালী শ্রমিক সংগঠনের নেতৃত্বে থাকতে হবে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, গণতান্ত্রিক চর্চা ও শ্রমিকদের প্রতি দায়বদ্ধতা। নেতাদের ব্যক্তিগত কিংবা রাজনৈতিক স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সাধারণ শ্রমিকদের মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে।
মো: জাহিদ হাসান বলেন, “শ্রমিকদের মধ্যে বিভেদ তৈরি করে কোনো পক্ষই দীর্ঘমেয়াদে লাভবান হতে পারে না। শ্রমিকের পরিচয় সবার আগে। দল-মত নির্বিশেষে শ্রমিকদের ঐক্যই তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।”
তিনি ফেডারেশন ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, রাজনৈতিক পরিচয় যার যার ব্যক্তিগত বিষয় হতে পারে; কিন্তু শ্রমিক সংগঠনের দায়িত্ব পালনকালে শ্রমিকদের সামগ্রিক স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশের শ্রমিক সংগঠনগুলো পারস্পরিক বিভেদ ও দলীয় প্রভাবের ঊর্ধ্বে উঠে ঐক্যবদ্ধভাবে শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, ন্যায্য মজুরি নিশ্চিতকরণ এবং কর্মক্ষেত্রে মর্যাদা ও নিরাপত্তা রক্ষায় আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।