
এম ইয়াকুব হাসান অন্তর
লাখাই প্রতিনিধিঃ
লাখাই উপজেলার ৫নং করাব ইউনিয়ন পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শিকার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালনে অবহেলা এবং রোগীর সাথে রমরমা টাকার বাণিজ্য, সরকারি ওষুধ বিক্রি সহ নানা অনিয়মের অভিযোগের কোন প্রতিকার না পেয়ে ভুক্তভোগীরা অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিস, লাখাই উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, এবং জেলা পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্ত।
রবিবার (২০ই জুন) অভিযোগপত্র জমা দিয়ে ভুক্তভোগী বেদেনা আক্তার বলেন,
৫নং করাব ইউনিয়ন পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের পরিদর্শিকা সুচিত্রা রানী দাশ বার বার শোকজ পাওয়ার পরও তিনি ভাল হননি,আমরা সেবার জন্য উনার কাছে আসি কিন্তু সেবা তিনি টাকার বিনিময়ে বিক্রি করেন ।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, করাব ইউনিয়ন পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র থেকে গর্ভবতী নারীদের ভাতা কার্ড সুবিধা পেতে পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা সুচিত্রাকে দিতে হচ্ছে টাকা। এ ছাড়াও অফিস চলাকালিন সময়ে রোগীদের কাছ থেকে রোগী ফ্রি বাবদ টাকা, হাসপাতাল থেকে সরকারী ঔষধ ও গর্ভবতী নারীদের প্রসব পূর্ব চেকআপ করতে টাকা,প্রসবের সময় পেরিনিয়াম কাট বা এপিসিওটমি সেলাই(প্রসবকে সহজ করতে ছোট্ট কাঁটা-ছেড়াঁ) করতে টাকা, ইমপ্ল্যান্ট (কার্যকর গর্ভনিরোধক পদ্ধতি’র) জন্য দিতে হচ্ছে টাকা । এমনই অনেক অভিযোগ ওই পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা সুচিত্রা রানী দাশের বিরুদ্ধে।
আরেক ভুক্তভোগী হাফসা আক্তার বলেন, যেকোনো কাজ করতে টাকা ছাড়া উনার হাত চলে না,যদি এভাবে চলতে থাকে তাহলে সেবা নিতে আসা গরীব অসহায়দের ভোগান্তির শেষ কোথায়?
ভোক্তভোগী কুলসুমা আক্তার বলেন,সুচিত্রা এখন টাকা ছাড়া আর কিছু চোখে দেখেনা, এর বিরুদ্ধে কেউ কোন ভূমিকা রাখছে না,আমরা সরকারের কাছে এর বিচার চাই।
এ বিষয়ে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ডাঃ গৌতম চন্দ্র রায় প্রতিবেদককে বলেন, অভিযোগ আমাদের কাছে এসেছে, বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখবো।
হবিগঞ্জ জেলা পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা এ কেএম সেলিম ভূঁইয়ার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলে, উনার মুটোফোনে নাম্বারে ফোন করার চেষ্টা করলে ওনার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়, যার কারনে কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।