
নিজস্ব প্রতিবেদক:
শ্রমিকদের অধিকার, ন্যায্য দাবি ও আইনি সুরক্ষার বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছেন শ্রমিক নেতা মো: জাহিদ হাসান। শ্রমিক নেতৃত্ব দেওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি আইন ও শ্রম-সংক্রান্ত বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করেছেন এবং ইউনাইটেড ফেডারেশন অব গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স-এর সঙ্গে কাজ করার পাশাপাশি বিভিন্ন ফেডারেশনের সহযোগিতায় শ্রমিকদের আইনি সহযোগিতা ও পরামর্শ দিয়ে আসছেন।
জাহিদ হাসান বলেন, শ্রমিকদের পাশে দাঁড়ানো তাঁর কাছে শুধু একটি দায়িত্ব নয়, এটি তাঁর দীর্ঘদিনের অঙ্গীকার। বিভিন্ন সময়ে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার, বেতন-ভাতা, কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য ও আইনগত সমস্যার বিষয়ে তিনি শ্রমিকদের সহযোগিতা করার চেষ্টা করেছেন।
তবে বর্তমানে তিনি নিজেই শারীরিকভাবে অসুস্থ এবং স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন। নিজের এই কঠিন সময়ে তিনি কয়েকজন ব্যক্তি ও সংগঠনের কাছ থেকে সহযোগিতা পেয়েছেন বলে জানান। তাঁদের মধ্যে কামরুল হাসান, মিজানুর রহমান এবং ইউনাইটেড ফেডারেশন অব গার্মেন্টস ওয়ার্কার্সের নাসিমা ইয়ামিন ও লুতফর-এর সহযোগিতার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন তিনি।
জাহিদ হাসান অভিযোগ করে বলেন, বিপদের সময়ে কিছু মানুষের কাছ থেকে তিনি এমন কিছু বক্তব্য ও আচরণের মুখোমুখি হয়েছেন, যা তাঁর দৃষ্টিতে অসাংবিধানিক ও বৈষম্যমূলক। তবে এসব অভিজ্ঞতায় তিনি শ্রমিকদের অধিকার রক্ষার দায়িত্ব থেকে পিছিয়ে যেতে চান না।
তিনি বলেন, “আমি আজ অসুস্থ, স্ট্রোকে আক্রান্ত। জীবনের এই কঠিন সময়ে যারা মানবিকভাবে আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন, আমি তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞ। একই সঙ্গে যারা বৈষম্যমূলক বা অসাংবিধানিক আচরণ করেছেন, তাঁদের প্রতিও আমার বক্তব্য—ব্যক্তিগত বিরোধ বা মতপার্থক্য নয়, আমাদের সবার উচিত আইন ও সংবিধানের আলোকে মানুষের অধিকারকে সম্মান করা।”
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে তিনি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর অন্যায় চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে সংবিধান, প্রচলিত আইন এবং শ্রমিকের ন্যায্য অধিকারের ভিত্তিতে শ্রমিকদের পাশে থাকার চেষ্টা করবেন।
জাহিদ হাসানের ভাষ্য, অসুস্থতা তাঁর শারীরিক সক্ষমতাকে সীমিত করতে পারে, কিন্তু শ্রমিকদের অধিকার ও ন্যায়ের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতা কমাতে পারেনি। তিনি সুস্থ হয়ে আবারও শ্রমিকদের আইনগত সচেতনতা বৃদ্ধি, ন্যায্য দাবি আদায় এবং বৈষম্যের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ ও আইনসম্মতভাবে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, “আমি সবার কাছ থেকে দূরত্ব বজায় রেখে নয়, বরং সংবিধান ও আইনের নীতিকে সামনে রেখে শ্রমিকদের পাশে থাকতে চাই এবং যতদিন পারি শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় কাজ করে যাব।”
তবে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।