
নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থ, দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও রাষ্ট্রের উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শ্রমিক নেতা মো. জাহিদ হাসান। তিনি বলেছেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতে পারে, ইতিহাস নিয়ে বিতর্ক ও আলোচনা হতে পারে; কিন্তু ‘কে রাজাকার’—এ ধরনের পরিচয়ভিত্তিক বিতর্ককে কেন্দ্র করে দেশের উন্নয়ন ও জনগণের অধিকার বাধাগ্রস্ত করা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
শ্রমিক নেতা মো. জাহিদ হাসান বলেন, “বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ আজ কর্মসংস্থান, ন্যায্য মজুরি, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, চিকিৎসা, শিক্ষা, বাসস্থান ও নিরাপদ জীবনযাপনের নিশ্চয়তা চায়। জনগণের এসব মৌলিক দাবি বাদ দিয়ে শুধু কে কোন পরিচয়ের—এমন বিতর্কে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সময় নষ্ট করা উচিত নয়।”
তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও দেশের স্বাধীনতার প্রশ্নে জাতির গভীর আবেগ রয়েছে। ইতিহাসের সত্য উদঘাটন ও অপরাধের বিচার অবশ্যই আইন, প্রমাণ ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে হতে হবে। কিন্তু কোনো ব্যক্তিকে রাজনৈতিকভাবে অপবাদ দেওয়া কিংবা যাচাই-বাছাই ছাড়া কাউকে ‘রাজাকার’ আখ্যা দিয়ে সামাজিক বিভাজন তৈরি করা দেশের জন্য কল্যাণকর নয়।
জাহিদ হাসান বলেন, “রাষ্ট্র পরিচালনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো জনগণের কল্যাণ। শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি, বেকারদের কর্মসংস্থান, বন্ধ কারখানা চালু, শ্রমিকের পাওনা পরিশোধ, কৃষকের ন্যায্য মূল্য এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর দিকে রাষ্ট্রকে বেশি মনোযোগ দিতে হবে।”
তিনি রাজনৈতিক দল ও নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, পারস্পরিক কাদা ছোড়াছুড়ি ও বিভাজনের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে দেশের উন্নয়ন, গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশ কারও একার নয়; এই দেশ সব নাগরিকের। জনগণের ঘাম ও শ্রমে দেশের অর্থনীতি এগিয়ে যাচ্ছে। তাই রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে রাষ্ট্রের স্বার্থ ও জনগণের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।”
শ্রমিক নেতা মো. জাহিদ হাসান আরও বলেন, উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; শ্রমিকের জীবনমান উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার, কর্মসংস্থান এবং মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রীয় উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তিনি প্রত্যাশা করেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে এবং বিভাজনের পরিবর্তে ঐক্য, সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার মাধ্যমে বাংলাদেশকে আরও এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবে।
— মো. জাহিদ হাসান
শ্রমিক নেতা ও গণমাধ্যম ও মানবাধিকার কর্মী