
মূল্যস্ফীতির চাপে শ্রমিকদের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ, দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক (আরএমজি) শিল্পে কর্মরত লাখো শ্রমিকের ন্যায্য জীবনমান নিশ্চিত করতে অবিলম্বে নতুন নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠনের দাবি জোরালো হয়েছে। শ্রম আইন অনুযায়ী প্রতি তিন বছর পরপর নিম্নতম মজুরি পুনর্নির্ধারণ বাধ্যতামূলক হলেও নির্ধারিত সময়ে সেই প্রক্রিয়া শুরু না হওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে উদ্বেগ ও অসন্তোষ বাড়ছে।
শ্রম অধিকারবিষয়ক বিশ্লেষক খায়রুল মামুন বলেন, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি, বাসাভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে বিদ্যমান মজুরি কাঠামো দিয়ে শ্রমিকদের পরিবারের ন্যূনতম চাহিদা পূরণ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক শ্রমিককে ঋণগ্রস্ত হয়ে সংসার চালাতে হচ্ছে, যা তাদের জীবনমানকে আরও ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
তিনি আরও বলেন, শ্রম আইন বাস্তবায়ন শুধু আইনি দায়িত্ব নয়, এটি শ্রমিকদের সাংবিধানিক ও মানবিক অধিকার রক্ষারও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সময়মতো মজুরি পুনর্নির্ধারণ না হলে শিল্পে অসন্তোষ সৃষ্টি হতে পারে, যা উৎপাদনশীলতা, বিনিয়োগ পরিবেশ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
শ্রম বিশেষজ্ঞদের মতে, বাস্তবসম্মত ও ন্যায্য মজুরি নির্ধারণ করলে শ্রমিকদের কর্মস্পৃহা বৃদ্ধি পাবে, উৎপাদনশীলতা উন্নত হবে এবং শিল্পে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে। একই সঙ্গে শ্রমিক-মালিক সুসম্পর্ক জোরদার হবে এবং দেশের রপ্তানি আয় বৃদ্ধিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
এ প্রেক্ষাপটে সরকার, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, মালিকপক্ষ এবং শ্রমিক প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে দ্রুত নতুন নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করে স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়ায় নতুন মজুরি কাঠামো নির্ধারণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা গেলে শুধু তাদের জীবনমানই উন্নত হবে না, বরং বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প আরও শক্তিশালী, প্রতিযোগিতামূলক ও টেকসই ভিত্তির ওপর এগিয়ে যাবে।