
নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশ মুসলিম লীগের ৫১তম পুনর্গঠন দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে মুসলিম জাতীয়তাবাদী রাজনীতির অপরিহার্যতা” শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় বক্তারা ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে সম্পৃক্ত রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
শনিবার (৮ আগস্ট ২০২৬) বিকেল ৩টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম হলে বাংলাদেশ মুসলিম লীগের উদ্যোগে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। দলের নির্বাহী সভাপতি আব্দুল আজিজ হাওলাদারের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও বুদ্ধিজীবী মহলের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার লক্ষ্যেই বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তাই বিএনপি আধিপত্যবাদের সঙ্গে আপস করবে—এমনটি তিনি মনে করেন না।
তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক দূরত্বের সুযোগ নিয়েই ফ্যাসিবাদীরা আবার মাথাচাড়া দেওয়ার সাহস পাচ্ছে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদের প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য আশরাফ আলী আকন্দ, বিশিষ্ট কলামিস্ট মোস্তফা কামাল মজুমদার, লেবার পার্টির সভাপতি ডা. মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, এফডিপির সভাপতি ড. এ আর খান, নাগরিক আন্দোলনের সভাপতি আহছান উল্ল্যাহ শামীম, ইতিহাস অন্বেষার সম্পাদক এস এম নজরুল ইসলাম, দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাওয়ের সভাপতি রকিবুল ইসলাম রিপন, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের স্থায়ী কমিটির সদস্য মাওলানা মুহাম্মদ জহিরুল আনোয়ার, জুলাই যোদ্ধা ও মুসলিম লীগ নেতা বকুল, সহসভাপতি সৈয়দ আব্দুল হান্নান নূর, অতিরিক্ত মহাসচিব কাজী এ. এ. কাফী, সাংগঠনিক সম্পাদক খান আসাদ, মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়া এবং শ্রম সম্পাদক ইঞ্জি. ওসমান গনীসহ অনেকে।
জাতীয় ঐক্যের বিকল্প নেই: কাজী আবুল খায়ের
প্রধান আলোচকের বক্তব্যে বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মহাসচিব কাজী আবুল খায়ের বলেন, ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদের প্রশ্নে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে সম্পৃক্ত সব শক্তির মধ্যে জাতীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই।
তিনি বলেন, “ভারতীয় হেজিমনির চূড়ান্ত পতনের পূর্ব পর্যন্ত যে কোনো মূল্যে এই নিরেট ঐক্য ধরে রাখতে হবে।” তাঁর বক্তব্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে ঐক্য ও পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
মুসলিম লীগ পুনর্গঠনের ইতিহাস তুলে ধরেন আব্দুল আজিজ হাওলাদার
সভাপতির বক্তব্যে দলের নির্বাহী সভাপতি আব্দুল আজিজ হাওলাদার মুসলিম লীগের পুনর্গঠনের ইতিহাস তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাংলার মুসলমানদের স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্য নিয়ে খান এ সবুর ১৯৭৬ সালের ৮ আগস্ট মুসলিম লীগ পুনর্গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
তাঁর দাবি, ওই উদ্যোগের মাধ্যমে মুসলিম জাতিসত্তায় বিশ্বাসী রাজনৈতিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করার পাশাপাশি বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে মুসলিম লীগের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, সাংগঠনিক ঐতিহ্য ও আদর্শকে সামনে রেখে দলটি ভবিষ্যতেও দেশের জনগণের স্বার্থে কাজ করে যেতে চায়।
আলোচনা সভায় বক্তারা দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র, জাতীয় স্বার্থ ও রাজনৈতিক অধিকার রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে রাজনৈতিক মতপার্থক্যকে গণতান্ত্রিক উপায়ে মোকাবিলা করে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ মুসলিম লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
মো: জাহিদ হাসান
গণমাধ্যম ও মানবাধিকার কর্মী