
নিজস্ব প্রতিবেদক, কালিয়াকৈর:
গাজীপুরের কালিয়াকৈরের চন্দ্রা ফ্লাইওভারের নিচে এক অটোচালকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে নাওজোর হাইওয়ে থানার এসআই আব্দুল করিমের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসীর দাবি, অটোচালককে গাড়ি থেকে নামানোর সময় পুলিশ সদস্যের আচরণ ছিল অতিরিক্ত কঠোর ও মারমুখী। একপর্যায়ে ওই অটোচালক অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং পরে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, অটোচালক গাড়ি থেকে নামতে অনিচ্ছা প্রকাশ করলে এসআই আব্দুল করিম তাকে টানাহেঁচড়া করে গাড়ি থেকে নামানোর চেষ্টা করেন। এ সময় তাকে চর-থাপ্পড় ও ঘুষি মারার অভিযোগও করেছেন কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি। তাদের দাবি, শারীরিকভাবে আঘাত পাওয়ার পর অটোচালক অসুস্থ হয়ে মাটিতে পড়ে যান এবং পরবর্তীতে তার মৃত্যু ঘটে।
তবে অটোচালকের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী—তা এখনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত ও চিকিৎসাবিষয়ক প্রতিবেদনের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। পুলিশের অভিযুক্ত সদস্যের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগও তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। তাদের প্রশ্ন—আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সদস্যের আচরণের কারণে যদি কোনো সাধারণ মানুষের প্রাণহানি ঘটে থাকে, তাহলে সেই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায় নির্ধারণ করবে কে?
স্থানীয়দের আরও দাবি, পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালনের সময় সাধারণ মানুষের সঙ্গে আইনানুগ ও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ বা নির্যাতনের অভিযোগ উঠলে তা দ্রুত তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
এ ঘটনায় অটোচালকের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বক্তব্য এবং ময়নাতদন্তসহ প্রয়োজনীয় সব তথ্য যাচাই করার দাবি উঠেছে।
সাধারণ জনগণের প্রশ্ন, পুলিশ কি আইনের ঊর্ধ্বে? যদি কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে আইনবহির্ভূতভাবে বলপ্রয়োগের অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও প্রচলিত আইনে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এ বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জবাব দাবি করছেন এলাকাবাসী।
তাদের প্রত্যাশা, ঘটনাটি ধামাচাপা না দিয়ে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা সামনে আনা হবে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ভবিষ্যতে কোনো সাধারণ মানুষ যেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের হাতে অন্যায় আচরণের শিকার না হন, সে বিষয়েও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।