
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় প্রায় আট বছর একসঙ্গে সংসার করার পর স্ত্রীকে অস্বীকার করার অভিযোগে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী মোছাঃ মাজেদা বেগম অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘদিন স্বামী-স্ত্রীর মতো বসবাস ও সংসার করার পর বর্তমানে মোঃ সুমন মিয়া তাকে স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি দিচ্ছেন না এবং তার ভরণপোষণ বন্ধ করে দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মাজেদা বেগম দাবি করেন যে, বিয়ের পর থেকে তিনি স্বামীর সংসার করে আসছিলেন এবং নিজের উপার্জনের অর্থও সংসারের প্রয়োজনে স্বামীর হাতে তুলে দিতেন। কিন্তু পরবর্তীতে যৌতুকের দাবিতে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, একপর্যায়ে তার স্বামী অন্যত্র বিয়ে করেন এবং তার খোঁজখবর নেওয়া ও ভরণপোষণ প্রদান বন্ধ করে দেন। উপায়ান্তর না দেখে তিনি কালিয়াকৈর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত মোঃ সুমন মিয়া দাবি করেছেন, মাজেদা বেগমের সঙ্গে তার কোনো বৈধ বিয়ে হয়নি। তবে অভিযোগকারী পক্ষের বক্তব্য, তারা দীর্ঘ প্রায় আট বছর স্বামী-স্ত্রী হিসেবে একসঙ্গে বসবাস করেছেন, যা স্থানীয় অনেকেই জানেন বলে দাবি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসআই শফিকুল ইসলামের কাছে অভিযোগের অগ্রগতি জানতে চাইলে তিনি বলেন, “মেয়েটি ভালো না।” তবে মানবাধিকারকর্মী ও সচেতন মহলের দাবি, কোনো ব্যক্তির পেশা, সামাজিক অবস্থান বা ব্যক্তিগত জীবনধারা যাই হোক না কেন, আইনের দৃষ্টিতে প্রত্যেক নাগরিক সমান অধিকার ও ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার রাখেন। কোনো নারীর চরিত্র বা পেশাকে কেন্দ্র করে তার অভিযোগকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই; বরং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা মনে করেন, যদি সত্যিই দীর্ঘদিন স্বামী-স্ত্রী হিসেবে বসবাসের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে ভুক্তভোগী নারীর অধিকার ও আইনগত সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্যও তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা জরুরি।
এলাকাবাসী প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে সঠিক বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন, যাতে কোনো নারী তার সামাজিক অবস্থান বা পেশাগত পরিচয়ের কারণে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত না হন।
মো: জাহিদ হাসান, গণমাধ্যম ও মানবাধিকার কর্মী।