
নিজস্ব প্রতিবেদক: টাঙ্গাইলের কাজীপুর এলাকার রফিকুল ইসলাম রবির বিরুদ্ধে তাঁর সন্তান ফাতেমা আক্তার ফারজানার ভরণ-পোষণ ও খোঁজখবর না নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, স্ত্রী মিস সূমি বেগমের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের সময় তিনি কাজির সামনে উপস্থিত লোকজনের সাক্ষ্যে তাঁর সন্তান ফাতেমা আক্তার ফারজানার ব্যক্তিগত জীবনযাপনের প্রয়োজনীয় ভরণ-পোষণের দায়িত্ব বহনের কথা বলেছিলেন।
অভিযোগে বলা হয়, প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পর রফিকুল ইসলাম রবি মাত্র এক মাস সন্তানের ভরণ-পোষণ প্রদান করেন। এরপর গত প্রায় ৮ মাস ধরে তিনি সন্তানের কোনো ভরণ-পোষণ দিচ্ছেন না এবং সন্তানের কোনো খোঁজখবরও নিচ্ছেন না বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এতে সন্তানের দৈনন্দিন জীবনযাপন, শিক্ষা, চিকিৎসা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যয় নিয়ে পরিবারটি সমস্যার মধ্যে পড়েছে বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন। একজন বাবা তাঁর সন্তানের দায়িত্ব নেওয়ার কথা প্রকাশ্যে বলার পরও দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন না করলে বিষয়টি সামাজিক ও আইনগতভাবে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, রফিকুল ইসলাম রবি—পিতা: মৃত আব্দুর রশিদ, মাতা: মৃত ফাতেমা বেগম; ঠিকানা: কাজীপুর, টাঙ্গাইল সদর, টাঙ্গাইল। তাঁর পাসপোর্ট নম্বরও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে অভিযোগে উল্লিখিত ব্যক্তির বক্তব্য, বিবাহবিচ্ছেদের দলিল, কাজির নথি এবং ভরণ-পোষণ প্রদানের প্রমাণপত্র যাচাই না করে অভিযোগকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ করা প্রয়োজন।
সন্তানের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার দাবি
অভিযোগকারী পক্ষ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দেখার এবং ফাতেমা আক্তার ফারজানার ন্যায্য ভরণ-পোষণ ও প্রয়োজনীয় অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।
একই সঙ্গে, যদি বিবাহবিচ্ছেদের সময় ভরণ-পোষণ সংক্রান্ত কোনো লিখিত চুক্তি, কাজির নথি বা সাক্ষ্যপ্রমাণ থেকে থাকে, তাহলে সেগুলো যাচাই করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
সবার নজরে আনার আহ্বান:
একটি সন্তানের ভরণ-পোষণ কোনো অনুগ্রহ নয়—এটি তার প্রয়োজন ও অধিকার। তাই বিষয়টি আবেগ দিয়ে নয়, বরং প্রমাণ, নথিপত্র ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।