
গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে উপজেলার সকল শিল্প-কারখানা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের প্রতি মানবিক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
বক্তব্যে বলা হয়, শিল্প-কারখানা একটি এলাকার অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র। কারখানা বন্ধ থাকলে শুধু শ্রমিকরাই ক্ষতিগ্রস্ত হন না, বরং বাড়িওয়ালা, দোকানদার, পরিবহন শ্রমিক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীসহ পুরো এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়ে। ফলে সকলের স্বার্থেই কালিয়াকৈর উপজেলার সকল শিল্প-কারখানা দ্রুত চালু হওয়া প্রয়োজন।
একই সঙ্গে মালিক পক্ষের ন্যায্য স্বার্থ, বিনিয়োগের নিরাপত্তা, উৎপাদন অব্যাহত রাখা এবং কারখানার সার্বিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। মালিকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কারখানা চালুর ক্ষেত্রে শ্রমিকদের সহযোগিতা, কর্মস্থলে শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা বিধি মেনে চলা এবং কোনো ধরনের ভাঙচুর, অবরোধ বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করার নিশ্চয়তা থাকা প্রয়োজন।
যেসব শ্রমিক কাজ করতে আগ্রহী, তাদের নিরাপদ ও স্বাভাবিক পরিবেশে কাজে ফেরার সুযোগ নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি-দাওয়া থাকলে তা আলোচনার মাধ্যমে এবং দেশের প্রচলিত শ্রম আইন অনুযায়ী সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। তবে দাবি-দাওয়া উত্থাপনের ক্ষেত্রে কারখানার স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত না হয় এবং উভয় পক্ষের ক্ষতি না হয়—সে বিষয়েও সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আহ্বানে আরও বলা হয়, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় শিল্প রক্ষা, কর্মসংস্থান বজায় রাখা এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে স্থানীয় বাড়িওয়ালা, দোকানদার, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শ্রমিক নেতা, মালিকপক্ষ ও সাধারণ জনগণকে একযোগে এগিয়ে আসতে হবে। বিভেদ ও সংঘাত নয়, বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সংলাপ ও সহযোগিতার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করাই হবে সর্বোত্তম পথ।
এছাড়া মালিক পক্ষের পক্ষ থেকে কিছু শর্তের ভিত্তিতে কারখানা স্বাভাবিকভাবে চালুর পক্ষে মত দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—শ্রমিকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা, উৎপাদন কাজে আন্তরিক থাকা, কারখানার সম্পদ ও যন্ত্রপাতির নিরাপত্তা রক্ষা করা, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং যেকোনো সমস্যা হলে তা তাৎক্ষণিকভাবে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা। একই সঙ্গে শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা, বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা যথাসময়ে পরিশোধের বিষয়েও মালিক পক্ষকে দায়িত্বশীল থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
কালিয়াকৈর উপজেলার শিল্পাঞ্চল সচল থাকলে শ্রমিকদের জীবিকা, ব্যবসায়ীদের আয় এবং এলাকার সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে। তাই বৃহত্তর স্বার্থে সকল পক্ষকে মানবিক চিন্তাভাবনা করে, পারস্পরিক আস্থা ও দায়িত্বশীলতার ভিত্তিতে শিল্প-কারখানা খোলা এবং উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে।